কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায় জানতে আমাদের ইউটিউব থেকে অর্থ আয় পোস্টটি দেখতে পারেন।
সাধারণ ইউটিউব চ্যানেল আইডিয়া
রিভিউ ভিডিও: কোন নির্দিষ্ট ধরণের প্রোডাক্ট বা বিষয়ের উপর নিয়ে করা রিভিউ ভিডিও। যেমন মোবাইল রিভিউ, দৈনিক ব্যবহার করা হয় এমন প্রোডাক্টের রিভিউ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে প্রোডাক্টের গুনাগুণ এবং দোষ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে পারেন।
ভ্রমণ ভিডিও: ঘুরতে ভালোবাসেন? তাহলে যেখানেই যান সেখানের উপর একটি শর্ট বা বিস্তারিত ভিডিও তৈরি করুন। যেমন কোথায় গিয়েছিলেন, তার বর্ণনা, খরচ, নিরাপত্তা, থাকার ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে বলতে পারেন।
ডু ইট ইয়উরসেলফ (DIY) ভিডিও: বিভিন্ন কাজ বা কিছু তৈরি/মেরামত নিজে করুন এরকম গাইডলাইন ভিডিও। যেমন কিভাবে ইউটিউবে চ্যানেল খুলতে হয় (ঠিক এই ভিডিও না করাই ভালো কেননা এরকম ভিডিও অনেক আছে), কিভাবে ল্যাপটপ ঠিক করতে হয় বা মেরামতের জন্য খুলতে হয় ইত্যাদি।
রান্না বা রেসিপির ভিডিও: কোন নতুন বা ভালো রেসিপি নিয়ে তৈরি করা ভিডিও। একই সাথে ফুড স্বাস্থ্য বিষয়ক ভিডিও হতে পারে। তবে চেষ্টা করবেন ভিডিও দেখে যেন ভিউয়ার সঠিকভাবে বুঝতে পারে কিভাবে কি করতে হবে।
পুরাতন রান্নার রেসিপি: ফ্যামিলিগত কোন পুরাতন রান্নার রেসিপি জানেন যা শেয়ার করতে চান? তাহলে সেটাও হতে পারে একটি আলাদা নিশ। এক্ষেত্রেও উপরের টপিকটি লক্ষ্য রাখতে হবে। সঠিকভাবে বুঝতে না পারলে সাবস্ক্রাইবার পাওয়া কঠিন হয়ে আসবে।
পশুপাখির ভিডিও: পশুপাখির অদ্ভুত আচরণ বা তাদের কাণ্ড-কারখানা নিয়ে তৈরি ভিডিও। যেমন আপনার বিড়াল থাকলে বিড়ালটির নিয়মিত অদ্ভুত বা মজার ব্যাপারগুলো রেকর্ড করে আপলোড করতে পারেন।
বাচ্চাদের ভিডিও: অনেক সময়ে ছোট বাচ্চাদের ভিডিও হতে পারে আকর্ষণীয় একটি টপিক। এবং বাচ্চাদের নিয়ে মজার ভিডিওগুলো দেখার জন্য প্রচুর মানুষ অপেক্ষায় আছে। তবে লক্ষ্য রাখবেন যেন কোন মতেই ভিডিওতে ভায়োলেন্স না থাকে।
নতুন মুভি বা বই রিভিউ ভিডিও: নতুন রিলিজ হওয়া মুভি বা বইয়ের রিভিউ নিয়ে ভিডিও হতে পারে ভালো একটি টপিক। এক্ষেত্রে যতো দ্রুত ভিডিও তৈরি করা সম্ভব ততোই দ্রুত আপনি বেশী ভিউয়ার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
চ্যালেঞ্জ ভিডিও: কাউকে কোন চ্যালেঞ্জ দিয়ে দেখা যে পার করতে পারছে কিনা এবং সেই চ্যালেঞ্জের শুরু থেকে শেষের ভিডিও রেকর্ড করেও শেয়ার করতে পারেন।
মেকআপ বা বিউটি টিপসের ভিডিও: ইউটিউবের জনপ্রিয় একটি বিষয় হচ্ছে বিউটি টিপস বা মেকআপ ভিডিও। আপনি যদি মেকাআপের ব্যাপারে ভালো জানেন বা ভালো ভালো বিউটি টিপস দিতে পারেন তবে সেটাকেও কাজে লাগাতে পারেন। ইউটিউবে বেশীরভাগ মেয়েদের পছন্দের একটি টপিক এটি এবং মেয়েদের দেখা অর্ধেকের বেশী ভিডিও মেকআপ এবং বিউটি টিপস। তবে এক্ষেত্রে ফ্যাশন সচেতন ছেলেরাও রয়েছে।
ম্যাজিক ভিডিও: ম্যাজিক ট্রিকস বা কৌশল শিখানো বা ম্যাজিক দেখিয়ে কাউকে চমকে দেয়ার ভিডিও। এক্ষেত্রে আপনি হয়তোবা দেখবেন ফেসবুক বা অন্যান্য মিডিয়াতে অনেকেই রয়েছে যারা নিয়মিত ম্যাজিক দেখিয়ে যাচ্ছে। ভালো ম্যাজিক ট্রিক্স জানলে আপনিও অনুসরণ করতে পারেন।
হোয়ুল ভিডিও (Haul Video): কোন নতুন প্রোডাক্ট কিনেছেন? তাহলে সেই প্রোডাক্টের ভিডিও হতে পারে একটি টপিক। কেনাকাটা শেষে সেই প্রোডাক্ট যখন আন-প্যাক করবেন তখন সেটি ভিডিও করতে পারেন এবং প্রোডাক্টের বর্ণনা করতে পারেন। তবে এই ধরণের ভিডিও এর ক্ষেত্রে অনলাইন থেকে ক্রয় করা ভিডিও বেশী গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে।
প্যারডি ভিডিও: কোন ভিডিও দেখেছেন রিসেন্টলি? তাহলে সেই ভিডিও এর প্যারডি ভার্সন তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে হাস্যকর ভিডিও বেশী গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
কভার গান: যদি আপনি নিজেকে ভালো ভোকাল মনে করেন তবে গান গাইতে পারেন এবং গানের ভিডিও আপলোড করতে পারেন। তবে শুধু মনেটাইজেশনের জন্য হলে এই চেষ্টা না করাই ভালো।
বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি: বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাচ্ছেন? নিয়মিত ঘুরে বেড়ান? তাহলে এই ঘুরাঘুরির সময়ের মজার এবং ভালো বিষয়গুলো ভিডিও করে আপলোড করতে পারেন।
গণিতের মজা: গনিত বা অংক নিয়ে অনেক মজাই করা যায়। জানেন নাকি এরকম কিছু? তাহলে সেটাকে কাজে লাগান। গনিত নিয়েই মজার মজার বিষয়গুলো শেয়ার করুন। যা কাউকে গনিতের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
লাইফস্কিল শিখানো: কিভাবে গাড়ীর টায়ার চেঞ্জ করা যায় জানেন? অনেকেই জানেনা। তাদের জন্য কাজে আসবে এরকম আরো অনেক কিছুই যদি জানেন তাহলে শিখাতে পারেন আপনার চ্যানেলের মাধ্যমে।
কম্পিউটার বা টেকনোলজি টিউটোরিয়াল: কম্পিউটার বা টেকনোলজি বিষয়ক সমস্যা বা সমাধান নিয়ে টিউটরিয়াল তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে যতো দ্রুত নতুন আসা প্রোডাক্টের টিউটোরিয়াল তৈরি করতে পারবেন ততো বেশী ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে।
মিউজিক্যাল টিউটোরিয়াল: কোন মিউজিক্যাল বাধ্যযন্ত্র ভালো বাজাতে পারেন? যেমন গীটার, হারমোনিকা, ড্রাম ইত্যাদি? তাহলে ভিডিও এর মাধ্যমে অন্যদেরকে শিখাতে পারেন কিভাবে এসকল বাধ্যযন্ত্র বাজাতে হয়। অনেক নতুন ছাত্র-ছাত্রী এখন ইউটিউব দেখেই শিখতে বেশী আগ্রহী তাই আপনি এই সুযোগটি নিতে পারেন। ভিডিও এর মাধ্যমে নিজের মিউজিক ট্রেনিং সেন্টার তৈরি করে ফেলুন।
ভিডিও গেমিং ইউটিউব চ্যানেল আইডিয়া
আনকাট গেমিং ভিডিও: ভিডিও গেম প্লে এর সম্পূর্ণ ভিডিও যা না কেটে বা কোন ধরণের এডিট না করেই আপলোড করা ভিডিও। এক কথায় র’ ভিডিও।
শর্ট ভিডিও: র’ ভিডিও এর কোন অংশ যা কেউ হয়তো দেখতে চাইতে পারে সেই ভিডিও এর শর্ট ভিডিও কেটে আলাদা ভাবে আপলোড করা ভিডিও।
ভিডিও গেম রিভিউ: গেমটি কিনলে কেমন হবে এবং অর্থ অপচয় হবে কিনা সেটা যাতে কিনার আগেই জানতে পারে সেজন্য নতুন ক্রেতাদের জন্য তৈরি করা গেম রিভিউ ভিডিও।
গেম নিয়ে কিছু বিষয়ের আলোচনা: গেম সম্পর্কে অনেক কিছুই মানুষ জানতে চায়। সেগুলোর তথ্য বের করে সেটা নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন। যেমন মারিও (Mario) নামটি কোথা থেকে আসছে অথবা কল অফ ডিউটি গেমের পরিকল্পনা কে করছে ইত্যাদি। গেম গভীরভাবে অনুসন্ধান: মূলত একটি গেমে কি কি আছে না আছে সব ঘুরে দেখানো। অর্থাৎ গেমের প্রতিটি অধ্যায় খেলে দেখানো।
গেম চরিত্র গবেষণা: অনেক গেমেই একাদিক চরিত্র নিয়ে খেলা সম্ভব। এখানে এক এক চরিত্র এক এক কাজে পারদর্শী হয়ে থাকে। গেমে দেখাতে পারেন কে কোন কাজে ভালো এবং কিভাবে সেই চরিত্রকে ব্যবহার করে লেভেল পার করা যায় বা কোন লেভেলে কোন চরিত্র নিয়ে খেললে জিতা সহজ ইত্যাদি।
গেমের ভিতরে ফান: অনেক সময় গেম খেলতে গিয়েও মজা করা যায়। গেমের ভিতরে এসকল ফান নিয়েও ভিডিও তৈরি করা যায় যা আসলেই মজার এবং জনপ্রিয়।
গেম গ্রাফিক্স কাস্টম করা: আপনি যদি নিয়মিত গেমার হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই জানেন যে গেমের মজাই হচ্ছে ভালো গ্রাফিক্স আর হার্ডওয়ারে। কিভাবে আপনি কাস্টমাইজেশন করে ভালো গ্রাফিক্সের সুবিধা নিতে পারছেন তাও দেখাতে পারেন। যা নবীনদের কাজে আসবে।
গেম নিউজ: নতুন কি গেম আসছে বা কোন গেমের কি আপডেট আসছে তার নিউজ ভিডিও তৈরি করতে পারেন। নিয়মিত গেমারদের জন্য এরকম চ্যানেল খুবই আকর্ষণীয় কেননা তারা প্রতিনিয়ত নতুন গেমের তথ্য ও আপডেট পেতেই অপেক্ষাতে আছে।
লাইভ ভিডিও গেমিং: গেম খেলার দৃশ্য সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করেও ভালো অবস্থান অর্জন করা যায়। এক্ষেত্রে আপনার গেম খেলার দক্ষতার উপর নির্ভর করবে আপনি কি রকম রেসপন্স পাচ্ছেন। আর আপনি যখনি ইউটিউব এর গেমিং সেকশনে যাবেন দেখবেন প্রচুর গেম লাইভ প্লে হচ্ছে এবং এগুলোর দর্শকও প্রচুর। ভালো গেম খেলতে জানলে আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
আরো কিছু ইউটিউব চ্যানেল আইডিয়া
নিউজ চ্যানেল
প্রাঙ্ক ভিডিও (এই টপিকের ভিডিও নিয়ে কাজ করতে যথেষ্ট সচেতনতা প্রয়োজন)
টাইম ল্যাপস (Time-lapse)
ভিডিও প্রতিযোগিতা বা ভিডিও কুইজ
শিল্পকর্ম তৈরির সময়ের ভিডিও
নাচের ভিডিও
স্ক্রিনকাস্ট ভিডিও (Screencast Video)
গাড়ী সংক্রান্ত ভিডিও (রেস, কাস্টমাইজেশন, মেরামত ইত্যাদি)
শব্দ উচ্চারণ বিষয়ক টিউটোরিয়াল
ইউটিউব চ্যানেল আইডিয়া বলে কখনোই শেষ করা যাবে না। কেননা ইউটিউবে প্রায় সবধরণের বিষয় নিয়েই কাজ করা যায়। আপনি যা ভালো জানেন তা নিয়েই চেষ্টা করুন। এবং যেই টপিক নিয়ে কাজ করতে চান না কেন মান যেন ভালো থাকে সে বিষয়েও সতর্ক থাকুন। আপনার চেষ্টাই আপনাকে সফল করতে সক্ষম হবে।

No comments:
Post a Comment